April 20, 2026, 1:37 am

হিরাঝিলে নকল ‘হান্ডি রেষ্টুরেন্ট’, থানায় মূল মালিকের অভিযোগ

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি :নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে হিরাঝিল আবাসিক এলাকায় নকল হান্ডি রেষ্টুরেন্ট উদ্বোধনের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৬ মে) রাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় মূল হান্ডি রেষ্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মো. মামুনুর রশীদ (৫৪) বাদী হয়ে অভিযোগটি দায়ের করেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তি মুরাদ মিয়া (৪৫) চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের উত্তর পাঁচানী গ্রামের মো. মোশারফ হোসেন ওরফে মারুফ মিয়ার ছেলে।

শনিবার ঘটনাস্থলে গেলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেন অভিযুক্তরা।
এর আগে গত ১১ মে হিরাঝিল মেইন রোড সংলগ্ন এলাকায় এই নকল হান্ডি রেষ্টুরেন্টের জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন করেন স্থানীয় কাউন্সিলর আনোয়ার ইসলাম।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিগত ২০০৭ সাল থেকে সুনামের সহিত ‘হান্ডি রেস্টুরেন্ট’ নামকরন করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছেন ভুক্তভোগী মামুনুর রশীদ। অভিযুক্ত ব্যক্তি তার রেস্টুরেন্টের কর্মচারী ছিলেন বলে জানা যায়। ভুক্তভোগী মোঃ মামুনুর রশীদের ঢাকার ধানমন্ডি, গুলশান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ মোট পাঁচটি শাখা রয়েছে। এছাড়া সারা বাংলাদেশে তার আর কোন শাখা নাই।
সূত্রে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত মুরাদ মিয়া ভুক্তভোগীর প্রতিষ্ঠান গুলশান শাখায় প্রায় ১২ বছর যাবৎ ক্যাশিয়ার পদে কর্মরত ছিলেন। সেই সুবাদে দীর্ঘ সময় ক্যাশিয়ারের দায়িত্বে থাকাকালীন প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপন করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে অভিযুক্তকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজি করে ভুক্তভোগী জানতে পারেন অভিযুক্ত মুরাদ তার সহযোগীদের নিয়ে অবৈধ ভাবে ভুক্তভোগীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ট্রেড মার্ক ব্যবহার করে ‘হান্ডি রেস্টুরেন্ট’ নামকরণ করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাধীন হিরাঝিল আবাসিক এলাকায় ‘হান্ডি রেস্টুরেন্ট’ দিয়ে অবৈধ ভাবে ব্যবসা করে আসছে। যার ফলে ভুক্তভোগীর বৈধ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতি সহ সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি অস্বীকার করে অভিযুক্ত মুরাদ মিয়া বলেন, আমি কোন টাকা আত্মসাৎ করিনি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছেন। তার (ভুক্তভোগীর) প্রতিষ্ঠানের নাম আর আমার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বলে জানান অভিযুক্ত মুরাদ মিয়া।

এদিকে ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে আসা সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শওকত জামিল জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ওসি স্যারের নির্দেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই রেস্টুরেন্ট মালিককে তার ব্যানার সরানোর জন্য বলা হয়েছে। মালিক পক্ষ তাদের ব্যানার সরিয়ে নিয়েছে। বাকিটা ওসি স্যার বলতে পারবেন বলে জানান তিনি।##

এই বিভাগের আরও খবর


অ্যামোনিয়া সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) সারকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কারখানার অ্যামোনিয়া মজুদ শেষ হয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ সার উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয়। ডিএপিএফসিএল সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)-তে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অথচ ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই দুই কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সংগ্রহ করে সার উৎপাদন চালিয়ে আসছিল। ফলে সিইউএফএল ও কাফকো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুদ অ্যামোনিয়া ব্যবহার করে কিছুদিন উৎপাদন অব্যাহত রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত শনিবার সন্ধ্যায় তা ফুরিয়ে যায় এবং উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দেশের কৃষি খাতে সুষম সার ব্যবহারের নিশ্চয়তা এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসসমৃদ্ধ যৌগিক সারের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিসিআইসি নিয়ন্ত্রিত এই কারখানাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় স্থাপিত কারখানাটিতে দৈনিক ৮০০ মেট্রিক টন উৎপাদনক্ষমতাসম্পন্ন দুটি ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) রয়েছে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটি বাণিজ্যিক উৎপাদনে রয়েছে। ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈনুল হক জানান, গত ৪ মার্চ থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। মজুদ দিয়ে উৎপাদন চালানো হলেও এখন তা শেষ হয়ে গেছে। অ্যামোনিয়া সরবরাহ পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকবে।

ফেসবুকে আমরা